বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০–কে কেন্দ্র করে ন্যায়সংগত ও টেকসই জলবায়ু অর্থায়নের দাবিতে ‘ইয়ুথ কল ফর ফেয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স’ শীর্ষক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি)। মঙ্গলবার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের জন্য ন্যায্য, স্বচ্ছ ও টেকসই জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিতের জোর দাবি তোলেন।
বাংলাদেশ জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও অভিযোজন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত। প্রতি বছর যেখানে দেশের কমপক্ষে ১২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন, সেখানে প্রাপ্ত অর্থ ১১ শতাংশেরও কম। এই বৈষম্যমূলক অর্থায়ন কাঠামোর কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের সর্বোচ্চ ক্ষতি ও বোঝা বহন করছে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী।
শুধু আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ঘাটতি নয়, দেশের অভ্যন্তরেও টেকসই অর্থায়ন কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের ১৫ শতাংশ টেকসই অর্থায়নে বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ব্যাংক তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হচ্ছে।
কোস্টাল এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি মুরাদ হোসেন রাজু বলেন,“ধনী দেশগুলোর শিল্পায়নের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের মানুষ, বিশেষ করে উপকূলবাসী। অথচ তারা ন্যায্য অর্থায়ন ও ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত। কপ-৩০–এ আমাদের দাবি স্পষ্ট—ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”
পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রাণ)-এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর উম্মে সালমা পপি বলেন,”যে সংকট বাংলাদেশের সৃষ্টি নয়, তার আর্থিক দায়ভার এই দেশের জনগণের ওপর চাপানো অন্যায়। একইভাবে নিজেদের টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রেও ঘাটতি আছে। ২০২৪ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সবুজ ও টেকসই শিল্পে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে—যা হতাশাজনক।”
ক্যাম্পেইনে জনসচেতনতা বাড়াতে একটি পথনাটক মঞ্চস্থ করা হয়।
“অভিযোজন ফান্ডের টাকা নিয়া তালবাহানা চলবে না”—এই স্লোগানকে ধারণ করে প্রাণ, ফেয়ার ফাইন্যান্স বাংলাদেশ কোয়ালিশন, অক্সফাম ইন বাংলাদেশ এবং কোস্টাল এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্ক (কোয়েন) যৌথভাবে এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে।
Leave a Reply