শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:২১ অপরাহ্ন
নোটিশ ::
বাংলাদেশ সারাবেলা ডটকমে আপনাদের স্বাগতম। সারাদেশের জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে  প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন - ০১৭৯৭-২৮১৪২৮ নাম্বারে
সংবাদ শিরোনাম ::
লালপুরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। ৩৩ মিনিট পর লিফট থেকে উদ্ধার জাককানইবি শিক্ষার্থী বশেমুরবিপ্রবি’র বিজয় দিবস হল নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাহাড়সম অভিযোগ পেকুয়ায় বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকের উপর হামলা, দোকানের মালামাল লুট পবিপ্রবিতে গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজনন প্রশিক্ষণ সমঝোতা চুক্তি পাহাড়ে‌র একমাত্র নারী প্রার্থীর চেয়ারম্যান পদে জয় ৬২০ দিন পর আগামীকাল খুলছে নোবিপ্রবি, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা পটুয়াখালীর দুমকীতে রাজিবের শোক সভা দোয়া মোনাজাত। কৃষি এবং কৃষিপ্রাধান্য বিশ্বিবদ্যালয়সমূহে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর দুমকীতে আগুনে পুড়ে দোকান ভষ্মিভুত।  দুমকীর বোর্ড অফিস বাজারের ব্যবসায়ীদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।  নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির চতুর্দশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। অসহায় স্বর্গ আচার্য্যের মানবিক সহায়তার আবেদন কেমন আছে ভুল চিকিৎসায় কোমায় থাকা বশেমুরবিপ্রবির সেই শিক্ষার্থী? জবিতে টিকার দ্বিতীয় ডোজ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা দুমকীতে উপজেলা পরিষদ মাসিক সভা একটি বাচ্চাকে বাঁচাতে অসহায় পরিবারের আকুতি গোপালগঞ্জে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচারের অভিযোগ কোন অপশক্তিই বিএমএসএফ’কে বিভক্ত করতে পারবেনা- সর্বোচ্চ পরিচালনা পর্ষদ মুবিপ মিটআপ ফটো কনটেস্ট ও উদ্যোক্তা কনটেস্ট পুরস্কার বিতরণী ২০২১ পেকুয়ায় ৪৫০০ পিচ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক  ক্লোন ক্যান্সার আক্রান্ত কুদ্দুছের আর্থিক সহযোগিতার আবেদন নোবিপ্রবিতে ভর্তিতে গুরুত্ব পাচ্ছে জিপিএ, ভর্তিচ্ছুদের ক্ষোভ চকরিয়ায় চার সন্তানের জননীকে কুপিয়ে হত্যা!

তিন যুগ পর স্বজনদের খুঁজে পেলো হাসিনা

শামীম হোসাইন তালহা, বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৭৪ ০০০ বার

হারিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ তিন যুগ পর হাসিনা খাতুন (৪৬) ফিরে পেয়েছেন তার স্বজনদের। মাত্র ১০ বছর বয়সে হারিয়ে যান তিনি। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে অবশেষে স্বজনদের কাছে ফেরা হলো তার। শনিবার তিনি বড়াইগ্রাম পৌরসভার রয়না গ্রামে তার পিতা মৃত মখলেছুর রহমানের বাড়িতে ফিরে এলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তাকে এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমান শ’ শ’ মানুষ।

হাসিনার স্বজনরা জানান, সহজ-সরল হাসিনার স্মৃতিশক্তি একটু দুর্বল ছিল, কোন কিছু ঠিকঠাক মনে রাখতে পারতেন না। প্রায় ৩৬ বছর আগে একদিন হাসিনা কাউকে কিছু না বলে তার প্রতিবেশী এক নানীর সঙ্গে বনপাড়া বাজারে যান। এরপর থেকে তার আর কোন খোঁজ মেলেনি।
হাসিনা খাতুন জানান, তিনি বনপাড়া থেকে বাড়ি ফেরার জন্য একাই বাসে উঠে বসেন। তবে ভুল বাসে উঠায় চলে যান ঈশ্বরদী। পরে যান ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে। কিন্তু ফিরবেন কিভাবে বুঝতে না পেরে বসে বসে কাঁদছিলেন। এ সময় আলমগীর হোসেন নামে রেলওয়ের একজন টিটি তাকে দেখতে পেয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। কিছুদিন চেষ্টা করেও তার পরিচয় জানতে না পেরে পরে হাসিনার আশ্রয় মেলে আলমগীরের দুলাভাই কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার কলাবাড়িয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে। এরপর তারাই লালন-পালন করে গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেন। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছরেও কোন সন্তান না হওয়ায় এক পর্যায়ে ভেঙ্গে যায় সে সংসার। এরপর হাসিনার পুনরায় বিয়ে হয় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কুষ্টিয়া চিনিকলের পাওয়ার টারবাইন অপারেটর হিসাবে কর্মরত আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে।
হাসিনা খাতুনের সঙ্গে আসা সোহেল রানা জানান, হাসিনার বর্তমান স্বামী সম্পর্কে তার দুলাভাই। বিয়ের পর তিনি প্রায়ই বাবা-মাকে দেখতে চাইতেন। কিন্তু ঠিকানা বলতে পারতেন না। তবে বাড়ি লক্ষীকোল, বাবার নাম মখলেছ আর বাড়ির পাশে বড়াল নদী আছে শুধু এতটুকুই বলতে পারতেন। গত তিন বছরে এটুকু তথ্যের ভিত্তিতেই সোহেল রানা ও তার দুলাভাই হাসিনার স্বজনদের খুঁজে পেতে নাটোরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন। কিন্তু খোঁজ পাননি। অবশেষে গত ১৫ দিন আগে তারা বড়াইগ্রাম পৌরসভার লক্ষীকোলের পাশে রয়না গ্রামে এসে খুঁজে পান তাদের ঠিকানা। এরপর গতকাল শনিবার তারা হাসিনাকে নিয়ে আসেন স্বজনদের কাছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই হাসিনার পিতা মখলেছুর রহমান ও সৎমা দুজনেই মারা গেছেন। রয়েছে শুধু তার ছোট দুই বোন আর বাড়ি সংলগ্ন মামী ও মামাতো ভাইবোনেরা। শনিবার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে ফিরে এলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন হাসিনা ও তার স্বজনরা। বাবা-মা বেঁচে না থাকলেও তাদের স্মৃতি আর বেঁচে থাকা স্বজনদের বুকে জড়িয়ে দীর্ঘ তিন যুগ পর নতুন করে বাঁচার অবলম্বন পেলেন হাসিনা খাতুন।
হাসিনার মামাতো ভাই আমজাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় আমরা বোনকে এক প্রকার ভুলতেই বসেছিলাম, আর কোনদিন তাকে পাবো এমন আশা ছিলো না। কিন্তু অবশেষে তাকে পেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।
হাসিনা খাতুন বলেন, সব সময়েই বাবা-মাসহ স্বজনদের দেখতে ইচ্ছা করতো, কিন্তু বাড়ির ঠিকানা সঠিকভাবে বলতে না পারায় শুধু নীরবে কেঁদেছি। স্বামীর চেষ্টায় অন্তত তাদের মুখ দেখতে পেরেছি এতেই আমার কলিজা ঠান্ডা হয়েছে। এখন এটুকু ভেবে শান্তি পাচ্ছি যে, পৃথিবীতে আমারও আপন বলে কেউ আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..