মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ ::
বাংলাদেশ সারাবেলা ডটকমে আপনাদের স্বাগতম। সারাদেশের জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে  প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন - ০১৭৯৭-২৮১৪২৮ নাম্বারে
সংবাদ শিরোনাম ::
বশেমুরবিপ্রবি’র বিজয় দিবস হল নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাহাড়সম অভিযোগ পেকুয়ায় বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকের উপর হামলা, দোকানের মালামাল লুট পবিপ্রবিতে গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজনন প্রশিক্ষণ সমঝোতা চুক্তি পাহাড়ে‌র একমাত্র নারী প্রার্থীর চেয়ারম্যান পদে জয় ৬২০ দিন পর আগামীকাল খুলছে নোবিপ্রবি, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা পটুয়াখালীর দুমকীতে রাজিবের শোক সভা দোয়া মোনাজাত। কৃষি এবং কৃষিপ্রাধান্য বিশ্বিবদ্যালয়সমূহে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর দুমকীতে আগুনে পুড়ে দোকান ভষ্মিভুত।  দুমকীর বোর্ড অফিস বাজারের ব্যবসায়ীদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।  নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির চতুর্দশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। অসহায় স্বর্গ আচার্য্যের মানবিক সহায়তার আবেদন কেমন আছে ভুল চিকিৎসায় কোমায় থাকা বশেমুরবিপ্রবির সেই শিক্ষার্থী? জবিতে টিকার দ্বিতীয় ডোজ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা দুমকীতে উপজেলা পরিষদ মাসিক সভা একটি বাচ্চাকে বাঁচাতে অসহায় পরিবারের আকুতি গোপালগঞ্জে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচারের অভিযোগ কোন অপশক্তিই বিএমএসএফ’কে বিভক্ত করতে পারবেনা- সর্বোচ্চ পরিচালনা পর্ষদ মুবিপ মিটআপ ফটো কনটেস্ট ও উদ্যোক্তা কনটেস্ট পুরস্কার বিতরণী ২০২১ পেকুয়ায় ৪৫০০ পিচ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক  ক্লোন ক্যান্সার আক্রান্ত কুদ্দুছের আর্থিক সহযোগিতার আবেদন নোবিপ্রবিতে ভর্তিতে গুরুত্ব পাচ্ছে জিপিএ, ভর্তিচ্ছুদের ক্ষোভ চকরিয়ায় চার সন্তানের জননীকে কুপিয়ে হত্যা! বিএমএসএফ’র কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত; পাইলট আহবায়ক,জাফর সদস্য সচিব সিপিবি ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

সেমিস্টার ফি মওকুফ এবং হল খোলার দাবি জাককানইবি শিক্ষার্থীদের

শর্মিষ্ঠা ভট্টাচার্য, জাককানইবি প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ জুন, ২০২১
  • ১০৫ ০০০ বার

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা আগামী ১৩ জুন থেকে স্বশরীরে অনুষ্ঠিত হবে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সেমিস্টার ফি মওকুফ ও হল খুলে দেওয়ার বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

ফোকলোর বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইভান জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীই বেশি। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে ও পারিবারিকভাবে আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই কোচিং কিংবা টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতো, অনেকে আবার বাড়িতেও টাকা পাঠাতো। প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ থাকায় তাদের কোচিং টিউশনিও বন্ধ। সব দিক বিবেচনা করলে প্রায় শিক্ষার্থী আর্থিক ভাবে সমস্যায় রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের দিক বিবেচনা করে নিকটবর্তী সেমিস্টার ফি মওকুফ করে দেওয়া। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন দপ্তর দীর্ঘদিন বন্ধ সেখানকার খরচের টাকাগুলো শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে দিয়ে দিতে পারে। এতে শিক্ষার্থী খুবই উপকৃত হবে।

স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নিশাত জানান, করোনা মহামারীতে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ব্যহত হয়েছে ব্যাপকভাবে। অনেকের পরিবারের সদস্যও মারা গেছেন এই সময়ে।তাই এই সময়ে সেমিস্টার ফি মওকুফ করা অত্যন্ত জরুরি। এতে করে যেসব ছাত্ররা মেসে থাকতো তারা সেই টাকাটা অত্যন্ত মেসের থাকা খাওয়ার জন্য খরচ করতে পারবে। কারণ নতুন করে সবাইকে আবার বিভিন্ন জায়গায় মেস নিতে হবে, দূর থেকে আসতে যাতায়াত বাবদ ও আলাদা খরচ তো আছেই। তাই আসন্ন দুইটা সেমিস্টারের ফি মওকুফ করা করার দাবি জানাই।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. নিজাম জানান, স্নাতক পর্যায়ে যে সকল শিক্ষার্থী ১ম বর্ষে আছেন, তাদের ১ম সেমিস্টার, যারা ২য় বর্ষে আছেন, তাদের ২য় বর্ষের ১ম সেমিস্টার, যারা ৩য় ও ৪র্থ বর্ষে আছেন তাদের যে সেমিস্টার আটকে আছে সেই সেমিস্টারের ফি মওকুফ করা একান্ত প্রয়োজন‌ এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়েও যাদের ১ম সেমিস্টার হয়ে গিয়েছে তাদের জন্য ২য় সেমিস্টার এবং যাদের ১ম সেমিস্টার হয়নি তাদের ১ম সেমিস্টারের ফি মওকুফ করা উচিত। এতে পরবর্তীতে অসচ্ছল শিক্ষার্থী যারা আছেন তাদের জন্য স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ফিরে আসা অনেকটা সহজ হবে বলে মনে করি।

সেমিস্টার ফি মওকুফের বিষয়ে স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রিপন মিয়া বলেন, আমরা সকলে জানি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র-ছাত্রী হচ্ছে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমরা অনেকই নিজেদের মাসিক খরচ গুলো নিজেরাই চালানোর চেষ্টা করে থাকি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী টিউশনি করে নিজেদের খরচ চালিয়ে থাকে। সেই সাথে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে সেমিস্টার ফি এর জন্য রাখা হতো। আর এই একবছরের উপরে করোনা মহামারী পরিস্থিতি জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। তার কারণে আমরা সবাই বাড়িতে অবস্থান করছি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমাদের টিউশন সেবা গুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও আমাদের হলের সুযোগসুবিধা নেই তার কারণে আমাদের বাহিরে মেছ নিয়ে থাকতে হয় আর সেই টাকাও আমরা বাড়িতে থেকে ৬৭% বহন করছিলাম। তাই নতুন করে সেমিস্টার ফি বহন করা অামাদের জন্য অনেক চাপ হয়ে যাবে। তাই সকল কিছু বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উচিত আমাদের এবারের সেমিস্টার ফি মওকুফ অথবা কমানো।

হল খোলার বিষয়ে পপপুলেশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মহসিনা সরকার বলেন, প্রশাসন এর কাছে আমার প্রশ্ন-এতোদূর থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে যাবে নাকি মেস খুঁজতে? বেডিং-সামগ্রী, বইখাতা টানাটানি অনেক ভোগান্তি। দোলনচাঁপা হলে ২১৪ জন থাকি আমরা, প্রত্যেকের সিংগেল বেড। শিক্ষকদের ডরমিটরিতে যদি করোনা না থাকে তাহলে শিক্ষার্থীদের হলে কেনো করোনার অজুহাত? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলছে না তার অন্যতম কারণ হলো তাদের অনেক শিক্ষার্থী গণরুমে থাকে, কিন্তু আমাদের তো গণরুম নেই তাহলে ভয় কিসের? শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে হল খোলে দেওয়া হোক।

সেমিস্টার ফি মওকুফের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এইচ এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, একাডেমিক কাউন্সিলে আমরা এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। এখন এ বিষয়ে আমিতো একা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না তবে সকলের সাথে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিবো কি করা যায়। এ বিষয় নিয়ে আমরা ভাববো।

হল খোলার বিষয়ে রেজিস্ট্রার(ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়নি শুধুমাত্র ধাপে ধাপে পরীক্ষাগুলো নেওয়া হবে। আর হল খোলার বিষয়ে সরকারি ভাবে নিষেধ দেওয়া আছে। সকলের টিকা নিশ্চিত হওয়ার পর সরকারি ভাবে ঘোষণা আসলেই হল খোলে দেওয়া হবে। এর আগে হল খোলা সম্ভব না।

উল্লেখ্য, ২ জুন (বুধবার) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের সময় প্রস্তুত থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল টিম। বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী পরীক্ষার সময় পরিবহন সুবিধা প্রদান করবে পরিবহন দপ্তর। পর্যায়ক্রমে কোর্স শেষ হওয়া সকল বিভাগ পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। পরীক্ষা গ্রহনের পূর্বেই বিভাগের অভন্ত্যরীন সংস্কার কাজের সমাপ্তি করার নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার দপ্তরকে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..