বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন
নোটিশ ::
বাংলাদেশ সারাবেলা ডটকমে আপনাদের স্বাগতম। সারাদেশের জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে  প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন - ০১৭৯৭-২৮১৪২৮ নাম্বারে
সংবাদ শিরোনাম ::
দৌলতপুরে প্রধান শিক্ষক আলী আকবর কর্তৃক ২ ছাত্রী কে বেদম প্রহার কুষ্টিয়া ভেড়ামারার হিসনা নদী দখল মুক্ত ও পুনঃখননের দাবী শার্শা সীমান্তে দেড় কোটি টাকার সোনা উদ্ধার, পাচারকারী আটক বাউফলে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ইউপি সদস্যকে আর্থিক জরিমানা হ্যাকিংয়ের শিকার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ফেসবুক আইডি চকরিয়া কোনাখালীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, নদীর নাব্যতাসহ হুমকির মুখে পরিবেশ শোক দিবস উপলক্ষে দিশা কুমারখালি শাখার পক্ষে দোয়া মাহফিল,বৃক্ষরোপণ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে- অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার খসরু পারভজের পুষ্পস্তবক অর্পণ যথাযোগ্য মর্যাদায় বশেমুরবিপ্রবিতে জাতীয় শোক দিবস পালিত বঙ্গবন্ধু মাটি ও মানুষের পরম আত্মীয়: পাবিপ্রবি ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাল ডিআইইউ জাতীয় শোক দিবসে পাবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতা ইমনের পথশিশুদের নিয়ে ব্যাতিক্রম কার্যক্রম জাতীয় শোক দিবসে পাবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতা রাসেলের বৃক্ষরোপন ও খাদ্য বিতরণ ‘আইসিটি পার্ক’ নিয়ে শতভাগ শিক্ষকের ‘না’; বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে দেয়ালিকা উন্মোচন  বি ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের সেবায় পাবিপ্রবি ছাত্রলীগ বশেমুরবিপ্রবিতে ‘বি’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত কুতুবদিয়া-মগনামা ঘাট পারাপারে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মানছে না ইজারাদার, ভোগান্তি চরমে ভেড়ামারা দফাদার ফিলিং স্টেশনে আগুন, নিহত ২ চকরিয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা জমজমাট কুষ্টিয়ার আল্লারদর্গায় পেট্রোল পাম্পে বিস্ফোরণে দুজন নিহত গোপালগঞ্জে Nature is the best teacher শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত পাবিপ্রবির ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস। নোবিপ্রবিতে শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে The STEMEd Club এর আয়োজন

অবশেষে বন্ধ হয়ে গেলো কুষ্টিয়া সুগার মিল

ওয়াই.এ. মিফতা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২১৬ ০০০ বার

একসময় কুষ্টিয়া সুগার মিলটি লাভের মুখ দেখলেও পরবর্তীতে প্রতি বছরই লোকসান হতে থাকে। লোকসানের কারণে মিলটি ছিলো ধ্বংসের পথে। অবশেষে বন্ধ হয়ে গেল মিলটি। ৪১৫ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে অবশেষে বন্ধ ঘোষণা করা হল কুষ্টিয়া সুগার মিলস (চিনি কল)। এরই প্রতিবাদে শ্রমিকরা রাজপথে নেমেছে কয়েকবার।

প্রতি মৌসুমে কোটি কোটি টাকা লোকসানের বোঝা ও নানা সংকটে চিনিকলটি পরিণত হয় অতি রুগ্ন শিল্পে। শুধুমাত্র ২০০১-০২ থেকে ২০১৯-২০ অর্থ বছর পর্যন্ত গত ১৯ বছরে দেশের বৃহত্তম এই চিনিকলটিতে লোকসান হয়েছে ৪১৫ কোটি টাকা।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, ১৯৬১ সালে কুষ্টিয়া শহরে অদূরে জগতি নামক স্থানে ২২১.৪৬ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত কুষ্টিয়া চিনিকল। ১৯৬৫-৬৬ সালে পরীক্ষামূলকভাবে এ মিলে চিনি উৎপাদন শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৬-৬৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয় চিনি উৎপাদন।
মিলের অর্থ বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি মৌসুমে চিনি উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও এ মিলে লাভের চেয়ে লোকসানই হয় বেশি। তবে ১৯৯৪-৯৫ অর্থ বছরে ২ কোটি ৬১ লাখ ও ৯৫-৯৬ অর্থ বছরে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা মিলে লাভ হয়। এছাড়া বিগত ২০০১-২০০২ থেকে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছর পর্যন্ত
গত ১৯ বছরের হিসাবমতে লোকাসন হয়েছে ৪১৫ কোটি টাকা। মিলের ব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. খোরশেদ আলম খন্দকার গত ১৯ বছরে ক্রমাগত লোকসানের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
চালুর প্রথমদিকে মিলটি লাভজনক হলেও পরবর্তীতে ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি, অনিয়ম-দুর্নীতি ও মাথাভারী প্রশাসনসহ নানা কারণে ক্রমাগত লোকসানের ঊর্ধ্বগতিতে মিলটি এখন অতি রুগ্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ফলে লোকসানের বিশাল বোঝা মাথায় নিয়ে কৃষিভিত্তিক একমাত্র এ প্রতিষ্ঠানটি পড়েছে চরম হুমকিতে। এ দৈন্যদশায় মিলটি ঝিমিয়ে পড়ার পাশাপাশি ৩০ কর্মকর্তাসহ ৮৯০ জন কর্মচারীর চাকরি এখন হুমকিতে। শ্রমিক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না ৫-৬ মাস।
কলটির প্রতিদিনের চিনি উৎপাদন ক্ষমতা ১৫’শ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক মাড়াই ক্ষমতা ১৫ হাজার মেট্রিক টন। মিল জোনের আওতায় আখ চাষ হচ্ছে ৪০ একর জমিতে।
এছাড়া বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় চাষি পর্যায়ে আখ চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৯শ’ ৯৩ একর জমিতে। প্রতিমন ১৪০ টাকা দরে চাষিরা মিলে চাষ সরবরাহ করেন। কিন্তু বিক্রিত আখের দাম পরিশোধে দীর্ঘ সূত্রিতাসহ হয়রানি ও নানা জটিলতায় চাষি মিলে আখ সরবরাহে আগ্রহ হারায়। প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত মিলটি আধুনিকীকরণ (বিএমআরই) করা হয়নি। ফলে বহু পুরাতন যন্ত্রাংশে সজ্জিত কারখানা প্রতি মৌসুমেই যান্ত্রিক ত্রুটিসহ ব্রেক ডাউনে চিনি উৎপাদন ব্যাহত হয়।
এছাড়াও প্রতি মৌসুমে মিলে উৎপাদিত হাজার হাজার টন চিনি থাকে অবিক্রীত। আমদানিকৃত চিনির বাজার মূল্য কম হওয়ায় ডিলার ও ভোক্তারা দেশি চিনির পরিবর্তে কেমিক্যাল মিশ্রিত রিফাইন চিনির দিকেই বেশী ঝুঁকছেন। ফলে নানা সংকটে সম্ভাবনাময় এ মিলটি ঘুর দাঁড়াতে পারেনি।
১৯৬১ সালে স্থাপিত এই মিলটি নিয়মিত চিনি, চিটাগুড়, মন্ড ও জৈবসার উৎপাদন করে আসছিলো। প্রথম কয়েক বছর মিলটি লাভে থাকলেও একসময় মুখথুবড়ে পরে। ধারাবাহিক ভাবে লোকসানে চলে যায় মিলটি।
পাটকলের ধারাবাহিকতায় এবার লোকসানে থানা চিনিকল বন্ধ করতে সরকার একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করে। কমিটির দীর্ঘ যাচাই বাছাই শেষে কুষ্টিয়া সুগার মিল সহ মোট ৬ টি সুগার মিলকে সাময়িক বন্ধের ঘোষনা দেন। আগামী বছর আরো দুইটি বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অধিকতর পর্যবেক্ষণ করে কমিটি কোন মিন কে আবার চালুও করতে পারে বলে জানাগেছে।
ষাটের দশকে প্রতিষ্ঠত চিনি শিল্প করপোরেশন যাত্রা শুরু হয়। দেশে শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থানের লক্ষে মিলগুলো প্রতিষ্ঠিত হলেও সময়ের পরিবর্তনে আজ রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে পড়েছে চিনি শিল্প। সরকারের সঠিক পদক্ষেপের অভাবে ১৫ টি চিনি কলের মধ্যে মাত্র একটি লাভের পথে, দুইটি কলের সক্ষমতা ৫০% এর উপরে আর বাকি গুলো পথ হারিয়ে মুখথুবরে পড়ে লাইফ সাপোর্টে আছে। সার্বিক উৎপাদন ক্ষমতা ও ব্যায় বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক দুর্নীতি সহ নানা কারনে মিলগুলোর লোকসান হয় প্রতিবছর। ধারাবাহিক লোকসানে সরকার ভর্তুকি দিতে দিতে হাপিয়ে উঠেছে। এ কারনে মিলগুলো নিয়ে সরকার নড়েচড়ে বসেছে। সরকার মিলগুলোর হিসাব নিকাশ করতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করে। ২০২০-২০২১ মাড়াই মৌসুমে এই কমিটির সুপারিস করে নয়(৯) টি মিল মাড়ায়ে থাকবে বাকী ছয়(৬) টি মিলে মাড়াই বন্ধ থাকবে। বন্ধ ৬ টির মধ্যে আছে কুষ্টিয়া সুগার মিল। তবে কমিটি সূত্রে জানা যায়, বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল গুলোর কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চালু ৯ টি মিলে বদলি করা হবে আর কিছু নিজস্ব মিলেই থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..