শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৩:২২ অপরাহ্ন
নোটিশ ::
বাংলাদেশ সারাবেলা ডটকমে আপনাদের স্বাগতম। সারাদেশের জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে  প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন - ০১৭৯৭-২৮১৪২৮ নাম্বারে
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিআইইউতে গবেষণা বিষয়ক সেমিনার বড়াইগ্রামে ট্রাক মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ দুইজন নিহত কাঁচাবাজারের সরকারি জমি দখল উপজেলা প্রশাসনের, বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা শার্শার বাগআঁচড়ায় সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ। আহত-১ দুমকীতে গভীর রাতে হাত পা বেঁধে ফিল্মি স্টাইলে ডাকাতি! জিপিএ পদ্ধতি বাতিলের দাবি শিক্ষার্থীদের থট অফ রমাদানের ব্যতিক্রম আয়োজন ” বিবেক দংশন ” – নাজমুল হুদা শিথিল। শার্শার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গনি’র মুত্যু, দাফন সম্পন্ন। কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলো কাকিনা স্টুডেন্টস ফোরাম চকরিয়ায় সড়ক দূর্ঘটনায় স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যু নাটোরে চাঞ্চল্যকর কৃষক হত্যার খুনীদের ফাঁসির দাবি বড়াইগ্রাম-বনপাড়া পৃথক উপজেলা গঠণের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা মেহেদীর জন্য সাহায্যের হাত বাড়ান দুমকীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগে গরিব অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ। ভেড়ামারায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর পাবিপ্রবিতে বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান রেইনের ইফতার বিতরণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে চিকিৎসা বোর্ড গঠন করেও বাঁচানো গেলো না সিংহী নদীকে নাটোরের মেয়ে সুমাইয়া সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষায় দেশ সেরা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন নোবিপ্রবি উপাচার্যকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ; বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিবাদ চকরিয়ায় ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক পাবিপ্রবিতে রসায়ন পরিবারের ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন। দুমকীতে আইসক্রিমের লোভ দেখিয়ে শিশু বলাৎকারের অভিযোগ! নোবিপ্রবিতে STEM ED ক্লাবের কমিটি ঘোষণা 

তিন যুগ পর স্বজনদের খুঁজে পেলো হাসিনা

শামীম হোসাইন তালহা, বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১৩০ ০০০ বার

হারিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ তিন যুগ পর হাসিনা খাতুন (৪৬) ফিরে পেয়েছেন তার স্বজনদের। মাত্র ১০ বছর বয়সে হারিয়ে যান তিনি। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে অবশেষে স্বজনদের কাছে ফেরা হলো তার। শনিবার তিনি বড়াইগ্রাম পৌরসভার রয়না গ্রামে তার পিতা মৃত মখলেছুর রহমানের বাড়িতে ফিরে এলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তাকে এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমান শ’ শ’ মানুষ।

হাসিনার স্বজনরা জানান, সহজ-সরল হাসিনার স্মৃতিশক্তি একটু দুর্বল ছিল, কোন কিছু ঠিকঠাক মনে রাখতে পারতেন না। প্রায় ৩৬ বছর আগে একদিন হাসিনা কাউকে কিছু না বলে তার প্রতিবেশী এক নানীর সঙ্গে বনপাড়া বাজারে যান। এরপর থেকে তার আর কোন খোঁজ মেলেনি।
হাসিনা খাতুন জানান, তিনি বনপাড়া থেকে বাড়ি ফেরার জন্য একাই বাসে উঠে বসেন। তবে ভুল বাসে উঠায় চলে যান ঈশ্বরদী। পরে যান ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে। কিন্তু ফিরবেন কিভাবে বুঝতে না পেরে বসে বসে কাঁদছিলেন। এ সময় আলমগীর হোসেন নামে রেলওয়ের একজন টিটি তাকে দেখতে পেয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। কিছুদিন চেষ্টা করেও তার পরিচয় জানতে না পেরে পরে হাসিনার আশ্রয় মেলে আলমগীরের দুলাভাই কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার কলাবাড়িয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে। এরপর তারাই লালন-পালন করে গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেন। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছরেও কোন সন্তান না হওয়ায় এক পর্যায়ে ভেঙ্গে যায় সে সংসার। এরপর হাসিনার পুনরায় বিয়ে হয় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কুষ্টিয়া চিনিকলের পাওয়ার টারবাইন অপারেটর হিসাবে কর্মরত আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে।
হাসিনা খাতুনের সঙ্গে আসা সোহেল রানা জানান, হাসিনার বর্তমান স্বামী সম্পর্কে তার দুলাভাই। বিয়ের পর তিনি প্রায়ই বাবা-মাকে দেখতে চাইতেন। কিন্তু ঠিকানা বলতে পারতেন না। তবে বাড়ি লক্ষীকোল, বাবার নাম মখলেছ আর বাড়ির পাশে বড়াল নদী আছে শুধু এতটুকুই বলতে পারতেন। গত তিন বছরে এটুকু তথ্যের ভিত্তিতেই সোহেল রানা ও তার দুলাভাই হাসিনার স্বজনদের খুঁজে পেতে নাটোরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন। কিন্তু খোঁজ পাননি। অবশেষে গত ১৫ দিন আগে তারা বড়াইগ্রাম পৌরসভার লক্ষীকোলের পাশে রয়না গ্রামে এসে খুঁজে পান তাদের ঠিকানা। এরপর গতকাল শনিবার তারা হাসিনাকে নিয়ে আসেন স্বজনদের কাছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই হাসিনার পিতা মখলেছুর রহমান ও সৎমা দুজনেই মারা গেছেন। রয়েছে শুধু তার ছোট দুই বোন আর বাড়ি সংলগ্ন মামী ও মামাতো ভাইবোনেরা। শনিবার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে ফিরে এলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন হাসিনা ও তার স্বজনরা। বাবা-মা বেঁচে না থাকলেও তাদের স্মৃতি আর বেঁচে থাকা স্বজনদের বুকে জড়িয়ে দীর্ঘ তিন যুগ পর নতুন করে বাঁচার অবলম্বন পেলেন হাসিনা খাতুন।
হাসিনার মামাতো ভাই আমজাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় আমরা বোনকে এক প্রকার ভুলতেই বসেছিলাম, আর কোনদিন তাকে পাবো এমন আশা ছিলো না। কিন্তু অবশেষে তাকে পেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।
হাসিনা খাতুন বলেন, সব সময়েই বাবা-মাসহ স্বজনদের দেখতে ইচ্ছা করতো, কিন্তু বাড়ির ঠিকানা সঠিকভাবে বলতে না পারায় শুধু নীরবে কেঁদেছি। স্বামীর চেষ্টায় অন্তত তাদের মুখ দেখতে পেরেছি এতেই আমার কলিজা ঠান্ডা হয়েছে। এখন এটুকু ভেবে শান্তি পাচ্ছি যে, পৃথিবীতে আমারও আপন বলে কেউ আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..