শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ ::
বাংলাদেশ সারাবেলা ডটকমে আপনাদের স্বাগতম। সারাদেশের জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে  প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন - ০১৭৯৭-২৮১৪২৮ নাম্বারে
সংবাদ শিরোনাম ::
ভেড়ামারায় নবাগত ওসি রফিকুল ইসলামের যোগদান সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হলেন নোয়াখালীর রবি আলম পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতির বর্ন্যাঢ বরণ প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার আগমন উপলক্ষে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন চকরিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে হাতি “সৈকত বাহাদুরের” মৃত্যু বেনাপোলে মদ গাঁজা ফেনসিডিলসহ আটক ৩ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হলেন পাবিপ্রবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আহমেদ হারিয়েছে চকরিয়ায় টিভিএসের নতুন শোরুম উদ্বোধন চকরিয়া সিটি হাসপাতালে ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন বশেমুরবিপ্রবিতে ব্রাজিল সমর্থকদের আনন্দ মিছিল নিয়মবহির্ভূত নির্বাচনের তারিখ দেয়ার অভিযোগ কুবি শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে আইন ভঙ্গ;বশেমুরবিপ্রবিতে উপাচার্যসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল জারি পাবিপ্রবিতে জেলা রোভারমেট ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত ভেড়ামারা থানায় নবাগত ওসি (তদন্ত) মোঃ আকিব এর যোগদান এপেক্স ক্লাব চকরিয়া সিটির প্রেসিডেন্ট মহসিন ও রিয়ান সেক্রেটারি নির্বাচিত পাবনায় উত্তরবঙ্গ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ইউজিসির নিয়োগ ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত নির্দেশিকার সংশোধনের দাবিতে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষকবৃন্দের মানববন্ধন ভেড়ামারা থানা পুলিশের সহায়তায় মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেন এক মহিলা রাজনীতির মাঠে কেউ ফাউল করলে তাকে লাল কার্ড দেখিয়ে বিদায় করবো সংবাদ প্রকাশের পর বনবিভাগের মামলা ভেড়ামারায় আগুনে পুড়ে ছাই কৃষকের বাড়ি দুই দিনব্যপী কুবি ছায়া জাতিসংঘ সংস্থার সম্মেলনের উদ্বোধন দুমকিতে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত কমিটির আনন্দ র‍্যালি ও আলোচনা সভা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যশোর আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সভা

বঙ্গবন্ধু- রাজনৈতিক পর্যটনের অবিচ্ছেদ্য অংশ

ফিচার ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০
  • ৩১৯ ০০০ বার

রাজনৈতিক পর্যটনের কথা শুনে অবাক হচ্ছেন? আমরা কোন না কোন ভাবে রাজনৈতিক পর্যটনের সাথে সম্পৃক্ত। মানুষ স্বভাবতই রাজনৈতিক জীব।রাজনৈতিক পর্যটন হচ্ছে পর্যটন সেই শাখা যখন কোন ব্যক্তি রাজনৈতিক কাজের জন্য এক দেশ থেকে অন্য দেশ বা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রন্তে ভ্রমণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা- সম্মেলন,বা কাজে অংশ গ্রহণের জন্য। রাজনৈতিক সম্মেলন,সভা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে স্বাভাবিক পরিবেশে বাইরে জায়গাগুলিতে ভ্রমণ করা এবং সেখানে থাকা ব্যক্তিদের ক্রিয়া-কলাপ অন্তর্ভুক্ত থাকে।

রাজনৈতিক পর্যটন আন্তর্জাতিক ভ্রমণের একটি উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র হিসেবে উঠে আসছে।প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানগণ রাজনৈতিক সভা- সম্মেলনে যোগদান করে থাকেন। আমাদের দেশে রাজনীতির সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান রাজনৈতিক পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে যেমন- রেসকোর্সে ময়দান বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলা বা মুজিবনগর, শহীদ মিনার,জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার বাড়ি ও বঙ্গবন্ধু জন্মস্থান ও সমাধিস্থান ইত্যাদি।

৭ই মার্চে রেসকোর্সে ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণকে বলা হয় বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।যে সনদের মহাকবি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতি বছর কয়েক লাখ মানুষ ঘুরতে আসেন মাহান নেতা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে বাঙালি জাতির মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন সেটি দেখার জন্য। মেহেরপুরে ঘুরতে যান মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের স্থনটি দেখার জন্য।এছাড়াও শহীদ মিনার,জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের স্বাধীনতার রাজনৈতিক ইতিহাস।

শেখ মুজিবুর রহমান সংক্ষিপ্তাকারে শেখ মুজিব একজন রাজনীতিবিদ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, যিনি বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাকে ‘বাঙালি জাতির জনক’ বলা হয়। তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁর হত্যার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন । তিনি বাংলাদেশের জনগণের কাছে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে খ্যাত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে ইতিহাসের মহানায়ক হিসেবে বিবেচিত।বঙ্গবন্ধু তাঁর সহজাত দক্ষতা সম্পন্ন নেতৃত্বে সাথে বলিষ্ঠ বাগ্মী, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং জাতীয়বাদীতার এক মুহূর্ত রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। এই সকল অনন্য ও বিরল গুণাবলীর জন্য তিনি সকলের মনে জায়গা করে নেন।
তাঁর কৃতিত্বের জন্য শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, সারা বিশ্বের মানুষ তাকে ভালবাসে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ দেশি-বিদেশি মানুষ গোপালগঞ্জ জেলার টুংগীপাড়ায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ঘুরতে আসেন। বাংলাদেশের স্মরণীয় দিন গুলো যেমন ১৭ ই মার্চ (বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন বা বাংলাদেশের জাতীয় শিশু দিবস), ১৫ ই আগস্ট (বাংলাদেশের জাতীয় শোক দিবস) এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা ও নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক নিবেদন করেন।এছাড়াও দেশের কাজে নিয়োজিত হওয়ার পূর্বে আওয়ামী লীগের সকল নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক নিবেদন করে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। বিদেশের রাজনৈতিক নেতারা যখনই বাংলাদেশে আসেন, তারা অবশ্যই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল দর্শন করেন।

বঙ্গবন্ধুর সমাধি স্থলে প্রতিবছর এত দর্শনার্থী ভিড় জমানোর কারনে এটিকে কেন্দ্র করে এর আশেপাশে অনেক হোটেল, রিসোর্ট এবং রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। তাই গোপালগঞ্জ জেলায় ‘বঙ্গবন্ধু সমাধি ‘কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পর্যটন প্রতিষ্ঠার দুর্দান্ত সুযোগ রয়েছে। আমরা যদি গোপালগঞ্জ জেলা টিকে দৃঢ়ভাবে রাজনৈতিক পর্যটনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে দেখতে চাই, তবে আমরা গোপালগঞ্জের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর একটি প্যাকেজ তৈরি করতে পারি যেখানে বঙ্গবন্ধু তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত গুলি কাটিয়েছেন। এর ফলে যেমন মানুষ তাদের প্রিয় নেতার জন্মস্থান, শৈশবকাল, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের হাতে খড়ি ইত্যাদি বিশদভাবে জানতে পারবে তেমনি গোপালগঞ্জ জেলা ও বিশ্বমঞ্চে পর্যটনের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করবে। গোপালগঞ্জ জেলাতে রাজনৈতিক পর্যটন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্থানীয় লোকদের পর্যটন সংশ্লিষ্ট কাজের সাথে সম্পৃক্ত করে তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সম্পর্কিত রাজনৈতিক স্থান ও স্থাপনাগুলকে সংরক্ষণের মাধ্যমে ভ্রমণ উপযোগী করতে পারলে রাজনৈতিক পর্যটনের মডেল হিসেবে গড়ে উঠবে। রাজনৈতিক পর্যটনের মডেল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর শৈশব থেকে শুরু করে রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ঘটনার জীবন্ত প্রতিফলন দেখতে পারবে।

 

লেখিকাঃ সাদিয়া শারমিন
শিক্ষার্থী, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..